কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে এ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি পরিবেশ সুরক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রতি বছর অন্তত পাঁচ কোটি গাছ রোপণ করা। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাসযোগ্য পরিবেশ উপহার দিতে হলে এখনই ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। বিশুদ্ধ বাতাস ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন। সফরকালে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম কক্সবাজার সফর। সকাল সাড়ে ৯টার পর কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
দিনব্যাপী সফরে তিনি মোট ১১টি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এ উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সফরের অংশ হিসেবে পাতলী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণের কল্যাণই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, নতুন বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে কোনো ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়নি। তবে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধির বিষয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সফরের পরবর্তী অংশে তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচিও রয়েছে।
বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে একটি সুধী সমাবেশে অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।
সব কর্মসূচি শেষ করে রাতের দিকে আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তার সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।