লামা উপজেলা-এর মিরিঞ্জা পাহাড়ে বসবাসরত ত্রিপুরা ও ম্রো সম্প্রদায়ের শ্মশান ও বসতভিটা দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব জমি দখল করে সেখানে বাণিজ্যিক রিসোর্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছে লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতা মো. জহিরুল ইসলামকে। ফলে উচ্ছেদের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পাহাড়ি বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ছাগলখাইয়া মৌজার মিরিঞ্জা বাগানপাড়া এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন শ্মশান রয়েছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র স্থান। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক মেয়র ও তার সহযোগীরা লিজ নেওয়ার আড়ালে ওই শ্মশানের জমি এবং আশপাশের বসতভিটা দখল করেছেন। বাগান করার কথা বলে পাহাড় লিজ নেওয়া হলেও, শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে দ্রুতগতিতে বিলাসবহুল রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ত্রিপুরা কার্বারি জানান, তাদের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান এখন দখল হয়ে গেছে এবং সেখানে রিসোর্ট নির্মাণ করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে গ্রাম ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গত কয়েক বছরে লিজের আড়ালে বিপুল পরিমাণ পাহাড়ি জমি দখল করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
ভূমি আইন অনুযায়ী, বাগানের জন্য লিজ নেওয়া জমিতে স্থায়ী স্থাপনা বা বাণিজ্যিক রিসোর্ট নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের নজরের সামনেই এসব নিয়ম উপেক্ষা করে মিরিঞ্জা পাহাড়ে একের পর এক কটেজ নির্মাণ করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ তাদের পৈত্রিক ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।