প্রবল বর্ষণ, সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় সনাতনী সমাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয়-সামাজিক সংগঠন। কালাঘাটাস্থ শ্রী শ্রী রাধা গিরিধারী মন্দির (ইসকন), শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদ এবং শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের যৌথ উদ্যোগে দুর্গত এলাকায় অব্যাহত রয়েছে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম। সম্প্রতি টানা ১২ দিনের অতিবৃষ্টিতে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যায় গৃহহীন হয়ে বহু পরিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। দুর্গতদের ঘরবাড়ি, ফসল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তারা চরম সংগ্রামের মুখোমুখি হচ্ছেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে বান্দরবান কালাঘাটাস্থ ইসকন মন্দিরের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বন্যার্তদের মাঝে প্রতিদিন রান্না করা পুষ্টিকর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যৌথ আর্থিক সহযোগিতা ও উদ্যোগ মানবিক এই কার্যক্রমকে বাস্তবায়িত করতে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদ–২০২৫। পরিষদের সভাপতি রাজেশ্বর দাশ (বিপ্লব) ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ দত্ত (বাচ্চু)-এর নেতৃত্বে দ্বিতীয় ধাপে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এই অনুদান প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ–২০২৫-এর সভাপতি রিটল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অলক ধর এবং সুমন দাশ আর্থিক সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাদের এই সহমর্মিতাপূর্ণ উদ্যোগ দুর্গত মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আয়োজকদের বক্তব্য: "ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি মানবসেবাই পরম ধর্ম। ভবিষ্যতেও যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে আমাদের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।" স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুর্যোগের সময় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে এনেছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার প্রধান শক্তি। দুর্যোগের এই সংকটময় মুহূর্তে বান্দরবানের সনাতনী সমাজের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু বন্যার্তদের কষ্টই লাঘব করেনি, বরং তা স্থানীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য এবং "মানুষ মানুষের জন্য"—এই চিরন্তন দর্শনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের থানচি উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত পরিবারগুলোর মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'ব্র্যাক'-এর যৌথ উদ্যোগে গত দুই দিনে মোট ২৭৬টি পরিবারের হাতে এই মানবিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। রবিবার (১২ জুলাই) উপজেলার হিন্দুপাড়ায় ৫৬টি, বাগানপাড়ায় ৭৪টি এবং থানচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আশ্রয় নেওয়া ৬০টি পরিবারসহ মোট ১৯০টি পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।...
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম থুইসা খিয়াংপাড়ায় দীর্ঘ আট দিন ধরে আটকে থাকা চার পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইডকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জানা গেছে, গত ৪ জুলাই পর্যটকদের এই দলটি অমিয়াখুম ও ভেলাখুম ভ্রমণে যান। কিন্তু হঠাৎ টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল শুরু হলে তারা উপজেলার তিন্দু ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের থুইসা খিয়াং পাড়ায় আটকা পড়েন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দুর্গম এই এলাকায় আটকে থাকা অবস্থায় ওই গ্রামের এক বাসিন্দা সম্পূর্ণ মান...
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বান্দরবানের সদর উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের ক্রাইক্ষ্যং পাড়ার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে 'জহির'স ইংলিশ কেয়ার' পরিবার। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে বন্যাকবলিত ৮০টি অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি মানবিক সহায়তা ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার (১১ জুলাই) সকালে হঠাৎ করেই বন্যার পানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ক্রাইক্ষ্যং পাড়া এলাকার বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। সে সময় সীমিত সময়ের জন্য ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া গেলে...
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। বন্যায় জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন হাজার হাজার পানিবন্দী মানুষ। এই কঠিন সময়ে অসহায় ও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব জাবেদ রেজা। আজ শনিবার (১১ জুলাই) তিনি বান্দরবানের বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান এবং পানিবন্দী মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ সামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণ বিতরণ ও এলাকা পরিদর্শনকালে...
টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত ৮ জুলাই জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তির অনুবৃত্তিক্রমে এই নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও বাড়ানো হলো। গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা চরম ঝুঁ...