পরীক্ষামূলক প্রচার

Breaking News

সময়ানুবর্তিতা ও জবাবদিহির উদ্যোগে বদলাচ্ছে প্রশাসনিক সংস্কৃতি

ডেক্স রিপোর্ট
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: গিরিকণ্ঠ
ছবি: গিরিকণ্ঠ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভিন্নধর্মী প্রশাসনিক ধারা তুলে ধরছেন Tarique Rahman। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও কাজের সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে একের পর এক উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি, যার প্রভাব ইতোমধ্যেই প্রশাসন ও সংসদে পড়তে শুরু করেছে।

প্রথম দিনই নির্ধারিত সময় সকাল ৯টায় অফিসে উপস্থিত হয়ে তিনি অনেক কর্মকর্তাকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে সরকারি দপ্তরগুলোতে সময়মতো উপস্থিত থাকার প্রবণতা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেরিতে অফিসে আসার যে সংস্কৃতি ছিল, তাতেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

এর পাশাপাশি কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে হঠাৎ পরিদর্শন শুরু করেছেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়—বাস্তব ও দৃশ্যমান পরিবর্তনই তার লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা যায়, তিনি প্রায়ই কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি বিশ্বাস রাখছি, কাজ করে দেখান,” এবং সেই বিশ্বাসের যথাযথ মূল্য দেওয়ার ওপর জোর দেন।

সম্প্রতি সংসদ ভবনে এক ঘটনায় তার কাজকেন্দ্রিক মনোভাব আরও স্পষ্ট হয়। বৈঠক শেষে বের হওয়ার সময় কিছু কর্মকর্তা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে দাঁড়িয়ে থাকলে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দায়িত্ব ফেলে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন নেই। এতে বোঝা যায়, তিনি তোষামোদ বা আনুষ্ঠানিক উপস্থিতির চেয়ে কার্যকর কাজকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ঈদের বিরতির পর সংসদের প্রথম কার্যদিবসেও একই বার্তা দেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগেই উপস্থিত হয়ে তিনি আবারও অনেককে অপ্রস্তুত করে দেন। সে সময় সংসদ কক্ষ প্রায় ফাঁকা থাকায় পরে আসা এমপি ও মন্ত্রীরা বিব্রত হন। তিনি আগেভাগেই নিজের নথিপত্র গুছিয়ে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বসে ছিলেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো থেকে বোঝা যাচ্ছে—পুরনো ধাঁচের আনুষ্ঠানিক ও তোষামোদনির্ভর রাজনীতি থেকে সরে এসে মেধা, দক্ষতা ও কাজের ভিত্তিতে একটি টেকসই প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান তিনি। তার এই অবস্থান ভবিষ্যতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত