পরীক্ষামূলক প্রচার

Breaking News

পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন: বান্দরবানে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার কেন্দ্রে মাম্যাচিং

বান্দরবান প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: গিরিকণ্ঠ
ছবি: গিরিকণ্ঠ

বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ নতুন করে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কারা চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ। বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিক নাম উঠে এলেও বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সাবেক সাংসদ, সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি মাম্যাচিং।

রাজপরিবারের পুত্রবধূ হয়েও বিলাসী জীবন ছেড়ে তিনি বেছে নিয়েছেন রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথ। বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দলের জন্য তার ত্যাগ-তিতিক্ষা এখন সর্বমহলে মূল্যায়নের দাবি রাখছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি একাধিকবার হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন এবং কখনো কখনো হুলিয়া মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবনও কাটিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা মাম্যাচিং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ এবং পুনরায় ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বান্দরবান জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখেন।

২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে মাত্র ৮৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। সে সময় দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সাচিংপ্রু জেরী ১৪ হাজার ভোট পাওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়ে বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। বর্তমানে তিনি ২০১২ সাল থেকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপজাতীয় বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আত্মীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে পার্বত্য জেলা পরিষদ কার্যত একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তাই এবার পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে উঠে দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।

জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন শাহীন বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ স্থানীয় উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের বিচারে মাম্যাচিংয়ের বিকল্প নেই।

অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমা জানান, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যেও মাম্যাচিংকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালেও নেতাকর্মীরা আত্মীয়করণের রাজনীতি মেনে নেবেন না।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. জাবেদ রেজা বলেন, পাহাড়ি সম্প্রদায়ের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা থাকলেও ইতোমধ্যে সাচিংপ্রু জেরীকে সংসদ সদস্য করা হয়েছে। তাই এখন মাম্যাচিংকে মূল্যায়নের সময় এসেছে। দলের জন্য তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ, নির্যাতন সহ্য করার ইতিহাস এবং সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সব মিলিয়ে, পার্বত্য জেলা পরিষদের পুনর্গঠন ঘিরে বান্দরবানে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশের প্রত্যাশা—দলের পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন নেত্রী মাম্যাচিং-ই এবার চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পেয়ে নতুন করে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পথ দেখাবেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত