বান্দরবান জেলাধীন আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের পোয়ামুহুরী এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম জোনের উদ্যোগে বাস্তবায়ন করা হয়েছে সুপেয় পানির প্রকল্প। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ দেখা দিয়েছে। cজোনের সৌজন্যে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন আলীকদম জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরহাদুর রহমান। প্রকল্পটি চালুর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির সংকটে থাকা পোয়ামুহুরী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম, ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পোয়ামুহুরী অত্যন্ত দুর্গম একটি পাহাড়ি অঞ্চল। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে সুপেয় পানির সংকটও ছিল প্রকট। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে নিরাপদ পানির জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের দূর-দূরান্তে যেতে হতো। এতে সময় ও শ্রম ব্যয়ের পাশাপাশি নারী, শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হতো। স্থানীয়রা বলেন, পাহাড়ের দুর্গম জনপদগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা পৌঁছানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আলীকদম সেনাজোনের পক্ষ থেকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি মৌলিক সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নিরাপদ ও সুপেয় পানির মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা আলীকদম সেনাজোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসার পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, পোয়ামুহুরীর মতো প্রত্যন্ত এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি প্রান্তিক মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ। তাদের ভাষ্য, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে সুপেয় পানির প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এখন স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ায় শুধু পানির সংকটই দূর হবে না, এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার মানও আরও উন্নত হবে বলে তারা আশা করছেন।
বান্দরবানের লামা ও আলীকদম উপজেলাজুড়ে সরকারি সংরক্ষিত বনাঞ্চল (রিজার্ভ ফরেস্ট) দখলের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। কাগজে-কলমে সরকারি বনভূমি হলেও বাস্তবে তার শত শত একর জমি চলে গেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ও পাহাড়খেকো সিন্ডিকেটের দখলে। বন সুরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে চলা এই বেপরোয়া দখলদারিত্বের ফলে পুরো অঞ্চলে নেমে এসেছে চরম পরিবেশ বিপর্যয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, বনের জমি গ্রাস করতে সিন্ডিকেটটি প্রথমে জুম চাষ, ফলজ বাগান বা সামাজিক বনায়নের অজুহাত ব্যবহার করে। এরপর রাত...
বান্দরবানের আলীকদমে বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৮.৫ লিটার চোলাই মদসহ এক নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার ১ নম্বর সদর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের অংবাইঅং পাড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতরা হলেন—উচম্রা মার্মা (২৪), থোয়াই ম্রা প্রু মার্মা (৫৫), চিংচিং মার্মা (৪৫) এবং উকিচিং মার্মা (৩২)। তারা সবাই আলীকদম সদর ইউনিয়নের অংবাই অং পাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আলীকদম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো...
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক স্কুলছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল হাকিমকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলীকদম থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনে। থানা সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে আলীকদম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা ইয়াছমিন আক্তার। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ আগস্ট আলীকদম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারায় মামলা নম্...
পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক বিশেষ ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতার অঞ্চল, যেখানে বাঙালি ও বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠীর মিশ্র বসবাস। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে এই অঞ্চলের যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই বাস্তবতা মাথায় রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে শুধু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন নয়, বরং উন্নয়ন ও সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুইমারা, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি...
রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবানে সেনাবাহিনী ও বিজিবির অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলা রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে গত ছয় মাসে (মার্চ-আগস্ট ২০২৬) নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানের বেশ কয়েকটিতে পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠনের সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), জেএসএসের একটি অংশসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠ...