বান্দরবানের লামা উপজেলার বিভিন্ন মার্মা পাড়াসহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ডায়রিয়ার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ৬ নম্বর রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম ছুমপং হেডম্যান মার্মা পাড়ার ১৯টি পরিবারের মধ্যে ১৮টি পরিবারের প্রায় সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৩ ও ২৪ জুন) লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা যায়, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ৫০ শয্যার হাসপাতালের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে। অনেক রোগী শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থেকেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
ছুমপং হেডম্যান মার্মা পাড়ার বাসিন্দা ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেনপ্রে মার্মা জানান, গত সপ্তাহে পাড়ার অধিকাংশ মানুষ পর্যায়ক্রমে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। অনেকেই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে মা ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। ফলে অনেক বাসিন্দা বাধ্য হয়ে পাহাড়ি ঝিরি ও ঝরনার ঘোলা ও দূষিত পানি পান করেন। এ কারণেই ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. সোলেমান আহমেদ বলেন, জুন-জুলাই মাসে পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন মার্মা পাড়া ও দুর্গম এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ভর্তি থাকা রোগীদের চিকিৎসায় মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, একটি বিশেষ মেডিকেল টিম দুর্গম ছুমপং হেডম্যান মার্মা পাড়ায় গিয়ে ২৫ জন ডায়রিয়া রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে।
এদিকে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পুনরাবৃত্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী।