বান্দরবানের লামার বন্যা দুর্গত এলাকায় মোবাইল মেডিকেল হেলথ ক্যাম্প পরিচালনা এবং বন্যাগ্রস্তদের মাঝে ডিগনিটি কিট বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘গ্রীন হিল’-এর উদ্যোগে পৌরসভার হরিণঝিরি এলাকার কলাবুরা পাড়ায় এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ। মূলত বন্যা-পরবর্তী সময়ে যাতে কোনো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই জরুরি মোবাইল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিম। ক্যাম্পে শিশু, কিশোরী ও গর্ভবতী মা-সহ মোট ২৫০ জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়। চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন মেডিকেল অফিসার ডা. সাকিব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. কায়সার, সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. ইমরান, স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমীরণ বড়ুয়া, এমটিইপিআই মো. মোস্তফা এবং গ্রীন হিলের মিডওয়াইফরা। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ক্যাম্পে আসা কিশোরী ও শিশুদের ইপিআই ভ্যাকসিনও দেওয়া হয়।
সেবামূলক এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ক্যাম্প থেকে ৫০ জন গর্ভবতী ও দুগ্ধদায়ী মাকে ‘বেবি কিট’, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৫০টি পরিবারকে ‘ডিগনিটি কিট’ এবং ৬০ জন কিশোরীকে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা (এমএইচএম) কিট বিতরণ করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ-র প্রোগ্রাম এনালিস্ট (এসআরএইচআর) মো. জামান, জেলা কর্মকর্তা তিমুথি খেয়াং, জাপাইগো এসআরএইচআর জেলা সমন্বয়ক ডা. জনি চাকমা এবং গ্রীন হিল সংস্থার উপজেলা সমন্বয়ক মংছিংপ্রু মার্মা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লামার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। এতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পানিবাহিতসহ বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। দুর্গত এলাকার মানুষের সেই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতেই জরুরি ভিত্তিতে এই বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।