পাহাড়ের রাজনীতিতে সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি নিয়ে গঠিত এই আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম; কোথাও নীরব লবিং, কোথাও হিসাব-নিকাশ, আবার কোথাও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে জল্পনা—শেষ পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি কি বান্দরবানের দখলে থাকবে, নাকি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে অন্য জেলায় সরে যাবে? সাধারণ মানুষের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন—“কে হচ্ছেন মহিলা এমপি?”
বান্দরবানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনার নামও জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। একজন তৃণমূলভিত্তিক সংগঠক হিসেবে তিনি রাজপথের আন্দোলন, দলীয় দুঃসময়ে ভূমিকা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ তাকে এই আসনের জন্য অন্যতম আলোচিত মুখে পরিণত করেছে।
এই আলোচনায় অন্যতম শক্তিশালী নাম হিসেবে উঠে এসেছে অ্যাডভোকেট উম্যাসিং মারমা। একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তার ভূমিকা তাকে আলাদা অবস্থানে নিয়ে গেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার সক্রিয়তা তাকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা থেকে আলোচনায় রয়েছেন শাহেনা আক্তার, যিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন পরীক্ষিত নেত্রী। ছাত্রদল থেকে রাজনীতির শুরু করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি আইন ও মানবাধিকার বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করা এই নেত্রী আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকা রেখে দলীয় মহলে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। প্রতিকূল সময়েও সংগঠনকে সচল রাখতে তার অবদান তাকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
অন্যদিকে আলীকদম উপজেলার চারবারের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিরিনা আক্তারও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এই নেত্রী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, মামলা-হামলার মুখোমুখি হওয়া এবং কঠিন সময়ে দলকে সমর্থন দেওয়ার কারণে ত্যাগী নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবশেষে, বান্দরবানের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন এক জায়গায় এসে মিলেছে—তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান, যিনি শুধু সংরক্ষিত আসনের সুযোগ নিয়ে সংসদে যাবেন না, বরং পাহাড়ের মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। “আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা”—এই মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতৃত্বই দেখতে চায় মানুষ। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত কে পাচ্ছেন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, এবং সেই সিদ্ধান্তে বান্দরবান তার আসন ধরে রাখতে পারে কি না।