বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নের পোয়ামুহুরী এলাকার বিভিন্ন ম্রো পাড়ায় চার দিনব্যাপী বিশেষ ‘আউটরিচ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যসেবা ও সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে ফাট্রা, পাহাড় ভাঙ্গা মেনরোয়া ম্রো পাড়া, তরণী, বড় আগলা ও সিন্দু মাংখাই কারবারী পাড়ার ম্রো জনগোষ্ঠীকে এই সেবা প্রদান করা হয়।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা জেএসআই ও গ্রীন হিল-এর ‘এমআইএইচআর’ প্রকল্পের সহযোগিতায় এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। এতে প্রায় ১৯৫ জন নারী ও শিশুকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যসহকারী চন্তণি চাকমার নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি বিশেষ দল এই দুর্গম অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেয়। দলে আরও ছিলেন স্বাস্থ্যসহকারী সামহ্রী মার্মা, লিটন কান্তি শীল, মংচেংনু মার্মা, জেএসআই জেলা সমন্বয়ক বিলাস সৌরভ বড়ুয়া এবং গ্রীন হিল-এর উপজেলা সমন্বয়ক ও সংবাদ প্রেরক মংছিংপ্রু মার্মা।
সেবা দানকারী দলটিকে পোয়ামুহুরী থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় প্রায় শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এবং পরবর্তীতে পাহাড়ি ঝিরি ও উঁচুনিচু পথ হেঁটে দুর্গম পাড়াগুলোতে পৌঁছাতে হয়। সেখানে স্থানীয় শিশু ও নারীদের যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা এবং সচেতনতামূলক পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক বিকাশ খুমী জানান, এলাকার কোনো মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যসহকারীদের খবর দেন এবং তারা এসে সবসময় ম্রো জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, “ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার যেসকল শিশু ও নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতেই এই বিশেষ আউটরিচ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”