বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের আট নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নিজেকে বাংলাদেশি দাবি করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও জন্মনিবন্ধন সনদ প্রদর্শন করলেও পরে তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে বিজিবির রেজুপাড়া বিওপি এবং পুলিশের একটি যৌথ টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— মংবা তংচংগা (৩৪), মংম (২০), কিংলা থুয়াইং (২১), রুপার (১৯), থাইংসা মং (৪০), তুলি (২০), তানতানাইং (২০) ও মংতা নাইং (২০)। তারা সবাই মিয়ানমারের মংডু ঢেকিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, আটকের পর মংবা তংচংগা নামের এক অনুপ্রবেশকারী নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ উপস্থাপন করেন। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাই ও তদন্তে ওই কাগজপত্রের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় আটক আট মিয়ানমার নাগরিকের বিরুদ্ধে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, "বিজিবি শুধু সীমান্ত প্রহরায় নয়, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান প্রতিরোধ, মানবপাচার রোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিহত এবং সীমান্তকেন্দ্রিক সব ধরনের আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এ ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে।"