বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রাদুর্ভাবে একের পর এক শিশুর নির্মম মৃত্যু এবং আরও একাধিক শিশুর মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার ঘটনায় গোটা জেলাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একটি শিশুর অকালমৃত্যু কেবল তার পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং তা সমগ্র সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোর জন্যও গভীর বেদনার বিষয়। প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এভাবে শিশু মৃত্যুর মিছিল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার চরম নাজুকতা ও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকেই আবার নতুন করে জনসমক্ষে উন্মোচিত করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে এসব পাহাড়ি এলাকায় সময়মতো চিকিৎসাসেবা না পৌঁছানো এবং শিশুদের শতভাগ টিকাদানের আওতায় আনতে না পারাই মূল সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই মর্মান্তিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনই দুর্গম এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী স্থানান্তরের জন্য দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই অনেক শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। তারা রুমা সহ আশেপাশের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সার্বক্ষণিক স্পেশাল অ্যাম্বুলেন্স বা দ্রুত পরিবহন সেবা চালু, পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতে অবিলম্বে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংকটকালীন সময়ে অতি দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারলে অনেক নিষ্পাপ শিশুর অমূল্য জীবন রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, পাহাড়ে হামের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধ করতে এবং ভবিষ্যতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বাস্থ্য বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া অপরিহার্য। হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি সংক্রামক ব্যাধি। তাই সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে এই মৃত্যুর ঝুঁকি শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। দেশের প্রতিটি শিশুর সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, আর তাদের সেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের সবার যৌথ দায়িত্ব।