কক্সবাজারের টেকনাফে সাবেক পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' হত্যার ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নিয়েছেন।
একইসঙ্গে মামলায় অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের 'শোন অ্যারেস্ট' দেখানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, তদন্তকারী কর্মকর্তা একরাম হত্যাকাণ্ডে আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়ে রিপোর্ট দাখিল করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করেই আদালতে ফরমাল চার্জ দেওয়া হলে ট্রাইব্যুনাল তা গ্রহণ করেন।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, "সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির নিখুঁত নকশা (মেটিকুলাস ডিজাইন) ও পরিকল্পনায় এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছিল। একরামুল হক ছিলেন বদির রাজনৈতিক ও এলাকার প্রধান প্রতিপক্ষ। একরামকে হত্যার পর তার বিভিন্ন সম্পত্তি কৌশল খাটিয়ে আত্মসাৎ করেছিলেন এই বদি। মূলত পুরো ঘটনার নেপথ্য নায়ক ছিলেন তিনিই।"
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন একরামুল হক। মৃত্যুর ঠিক পূর্বমুহূর্তে ফোনে ছোট মেয়ের আকুতি—"আব্বু তুমি কান্না করতেছ যে..." এবং এরপর গুলির শব্দসহ কল রেকর্ড সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার ঝড় ওঠে। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর 'ক্রসফায়ার' ও বন্দুকযুদ্ধের গল্প নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল।
দীর্ঘ দিন পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান তুষার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম মিনু, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন ওরফে রাজন, স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস মাহমুদ ওরফে রাজু এবং লেফট্যানেন্ট কমান্ডার আশিকুর রহমান ওরফে সৈকত।