| ছবি: গিরিকণ্ঠ
সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিজনিত ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূখণ্ড ধসে রাঙ্গামাটির ক্ষতিগ্রস্ত এবং গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষের সহায়তায় অবিচল নিষ্ঠা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে সেনা সদস্যদের এই ধারাবাহিক মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে দুই ধাপে মোট ১৩৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে খাদ্যবস্তু ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি জোনের দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, প্রথম পর্যায়ে গত ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাঙ্গামাটির রাবার বাগান এলাকায় পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৬টি পরিবারের হাতে জরুরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ, ০২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দ্বিতীয় ধাপে রাঙ্গামাটি পৌরসভা এবং রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে তোলা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ও ক্ষতিগ্রস্ত আরও ১০০টি পরিবারের মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানো হয়। উল্লেখ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগের শুরু থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে দ্রুত উদ্ধার করা, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আসা দুর্গত মানুষের নিরাপত্তা ও মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণসহ নানা রকম উদ্ধার ও মানবিক কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে আসছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি, সম্প্রীতি ও অখণ্ডতা রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় এ অঞ্চলের মানুষের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সংকটকালে মূল ভরসাস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেনাবাহিনীর এই ধরনের জনসেবামূলক ও মানবিক কার্যক্রম স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর মাঝে আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সেনা কর্মকর্তারা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলের যেকোনো সংকটে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক সাহায্য-সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।