প্রকাশ :: ... | ... | ...

পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় রাঙামাটিতে মৎস্য খাতে ৪ কোটি টাকার ক্ষতি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নে মৎস্য খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাঙামাটি জেলা মৎস্য কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্লাবিত এলাকার ২২৩টি মৎস্য খামারের প্রায় ৯৭ দশমিক ৬৭ হেক্টর পুকুর, ক্রিক ও জলাশয় তলিয়ে গেছে। এতে ৮৯ মেট্রিক টন মাছ এবং প্রায় ২২ লাখ মাছের পোনা ভেসে গেছে বা নষ্ট হয়েছে। শুধু মাছের বাজারমূল্য ১৮৮ দশমিক ১০ লাখ টাকা এবং পোনার ক্ষতি ১০০ দশমিক ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়া অবকাঠামোগত ১০৫ দশমিক ৪৭ লাখ টাকাসহ মৎস্য খাতে সর্বমোট ৩ ৯৪ দশমিক ৩২ লাখ টাকার ক্ষতি নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলায়, যেখানে ৮১টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে প্রায় ২৫৫ দশমিক ৩১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জুরাছড়িতে ৬৬ দশমিক ৪২ লাখ, কাউখালীতে ২১ দশমিক ৫০ লাখ এবং রাজস্থলীতে ১৫ দশমিক ৮৬ লাখ টাকার ক্ষতিসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও খামারিরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দুর্গম এলাকাগুলোর তথ্য সংগ্রহ এখনও চলায় এই ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীদের পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিক তালিকা জেলা প্রশাসনে পাঠানো হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রতিটি খামারির কাছে সরাসরি গিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। স্থানীয় মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিদের সংকট কাটিয়ে উঠতে বিনামূল্যে পোনা বিতরণ, স্বল্পসুদে ঋণ ও খাদ্য সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বন্যাসহনশীল মৎস্য অবকাঠামো ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।