| ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটি শহরের ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দেশি-বিদেশি মদ বিক্রির প্রচারণাসহ মোবাইল নম্বরসংবলিত সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে [cite: রাঙামাটি শহরের ঝুলন্ত ব্রিজ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দেশি-বিদেশি মদ বিক্রির প্রচারণাসহ মোবাইল নম্বরসংবলিত সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে]। পর্যটন এলাকার ব্যস্ত সড়কে এমন বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের নজরে আসলে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ডগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। এই ঘটনার পর সাইনবোর্ড টাঙানোর অনুমতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এইচ এম এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার পাপন বণিক দাবি করেন যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই সাইনবোর্ডগুলো দেওয়া হয়েছিল [cite: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এইচ এম এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার পাপন বণিক দাবি করেছেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছিল]। তবে রাঙামাটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক নাহিদ হাসান সৌরভ এই দাবি পুরোপুরি নাকচ করে জানান যে তারা এ ধরনের কোনো অনুমতি দেননি [cite: তবে রাঙামাটির মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নাহিদ হাসান সৌরভ জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো অনুমতি তারা দেননি]। অন্যদিকে, পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা জানান যে লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে এই সাইনবোর্ড টাঙিয়েছিল [cite: অন্যদিকে রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ম্যানেজার আলোক বিকাশ চাকমা প্রতিবেদককে বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কখনো করা হয়নি। লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি নিয়মবহির্ভূতভাবে সাইনবোর্ড টাঙিয়েছে।”]। এ বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব-পিপিএম মন্তব্য করেছেন যে এ ধরনের সাইনবোর্ড ঝোলানো সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত এবং এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে [cite: এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব-পিপিএম প্রতিবেদক আলমগীর মানিককে বলেন, “এ ধরনের সাইনবোর্ড ঝোলানো পুরোপুরি আইনবহির্ভূত। এতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি মোটেও ভালো কিছু নয়।”]। প্রতিদিন দেশ-বিদেশি পর্যটক, পরিবার ও শিক্ষার্থীদের চলাচল রয়েছে এমন একটি জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্য মদ বিক্রির এই প্রচারণা পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা [cite: প্রতিদিন যেখানে দেশ-বিদেশের পর্যটক, পরিবার ও শিক্ষার্থীদের চলাচল রয়েছে, সেখানে প্রকাশ্য মদ বিক্রির প্রচারণা পর্যটন এলাকার পরিবেশ ও সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেকে]। শুধু সাইনবোর্ড খুলে ফেলাই যথেষ্ট নয়, বরং কার অনুমতিতে ও কোন বিধির আওতায় এমন বিজ্ঞাপন টাঙানো হয়েছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা