পরীক্ষামূলক প্রচার

Breaking News

লামা হাসপাতাল ১০০ শয্যায় উন্নীতের জোর দাবি

লামা প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: গিরিকণ্ঠ
ছবি: গিরিকণ্ঠ

বান্দরবান জেলার জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। দ্রুত শয্যা বৃদ্ধি, চিকিৎসক সংকট নিরসন, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং স্টাফ কোয়ার্টার সংস্কার না হলে এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা উপজেলা একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় দুই থেকে তিন লাখ মানুষের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার একমাত্র সরকারি ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী চকরিয়া ও আলীকদম এলাকার অনেক দরিদ্র রোগীও এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও প্রসূতি মায়েদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি নেতৃবৃন্দ বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান ৫০ শয্যার হাসপাতাল যথেষ্ট নয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করা প্রয়োজন।

হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকেরাও এ দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তারা জানান, জনগণের চাহিদা পূরণে নতুন ভবন নির্মাণ, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ জরুরি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসক ও জনবল সংকট চলছে। এছাড়া এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাফিসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতির অভাবে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেসরকারি ক্লিনিকে ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও অনেক দরিদ্র মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে হাসপাতালের আবাসিক কোয়ার্টারগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, রোগীর তুলনায় শয্যা ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি সত্য। প্রতিদিন ধারণক্ষমতার বাইরে গিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মানবিক বিবেচনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত