শিশু অপুষ্টি ও বাল্যবিবাহ রোধে রোয়াংছড়িতে আলোচনা সভা | ছবি: গিরিকন্ঠ
বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পর্যায়ক্রমে বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম ও শিশু অপুষ্টিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কারবারি ও উপজেলা প্রশাসনের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের ‘রোয়াংছড়ি এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার উসাইম্যা মারমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ম্যানেজার চাংম্বুগং। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি। বিশেষ অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উসাইচিং মারমা, তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উমংসিং মারমা, আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ভারতসেন তঞ্চঙ্গ্যা এবং নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ক্যনুপ্রু মারমা। এছাড়া রোয়াংছড়ি সদর, তারাছা, আলেক্ষ্যং ও নোয়াপতং ইউনিয়নের স্থানীয় কারবারি, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন। সভায় শুরুতে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ম্যানেজার চাংম্বুগং স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও কৌশল তুলে ধরা হয়। আলোচনায় পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু অপুষ্টি দূরীকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, কারবারি ও হেডম্যানরা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকায় বাল্যবিবাহের ঝুঁকিতে থাকা পরিবার চিহ্নিত করা এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে শিশু অপুষ্টি দূরীকরণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, সামাজিক নেতৃত্ব ও প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও তাজমিন আলম তুলি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। একটি কিশোরীর বাল্যবিবাহ হলে অনেক সময় সে প্রয়োজনীয় যত্ন ও পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। স্থানীয় নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে গ্রামভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে টেকসই ফলাফল পাওয়া সম্ভব। সভায় স্থানীয় পর্যায়ে বাল্যবিবাহের সামাজিক ঝুঁকি হ্রাস এবং শিশুদের অপুষ্টি নিরসনে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নিজ নিজ এলাকাকে পর্যায়ক্রমে ‘বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে অংশগ্রহণকারীরা একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।