জোত পারমিটের আড়ালে অবৈধ গাছ পাচার, আলীকদমে ১০১ ঘনফুট সেগুন কাঠ জব্দ। | ছবি: গিরিকন্ঠ
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের কলারঝিরি এলাকায় গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করেছে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)। জব্দ করা কাঠের পরিমাণ ১০১ দশমিক ১২ ঘনফুট, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০ টাকা। এ ঘটনায় বন বিভাগের তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযানে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে জোত পারমিটের বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে অবৈধ কাঠ পাচার করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গভীর রাতে তৈন-কলারঝিরি এলাকায় সেগুন গোল কাঠ পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি)-এর একটি দল সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিপুল পরিমাণ সেগুন গোল কাঠ জব্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় বন বিভাগের স্থানীয় তৈন রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে সহায়তা ও ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উপস্থিতির অনুরোধ করা হলেও তিনি এতে সাড়া দেননি। এ ঘটনায় বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জব্দ করা কাঠগুলো তৈন রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে দিয়ে পার্শ্ববর্তী লামা উপজেলার বিভিন্ন কাঠের ডিপোতে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে পরবর্তীতে ভুয়া অথবা ভিন্ন জোতের বৈধ কাগজপত্র ব্যবহার করে এসব কাঠ বৈধ দেখিয়ে বাজারজাত করার একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়দের প্রাথমিক তথ্যমতে, জব্দকৃত কাঠের মালিক হিসেবে ওমর ফারুক বেচুর নাম উঠে এসেছে। তবে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাঠের মালিকানা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে আলীকদমের তৈন রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন রিজার্ভ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, বন উজাড় বন্ধে বিজিবিসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বন বিভাগের কঠোর, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) জানিয়েছে, জব্দকৃত কাঠের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কাঠগুলো বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।