খেলার মাঠ ফেরাতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট। | ছবি: গিরিকণ্ঠ
অবশেষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষের স্মৃতিবিজড়িত ও ঐতিহ্যবাহী ‘রাজার মাঠ’ দখলমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বান্দরবান পৌরসভা। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দিয়ে শহরের একমাত্র মুক্ত খেলার মাঠটিতে শিশু-কিশোরদের সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এই বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ্য, রাজার মাঠের দীর্ঘদিনের দখলদারিত্ব, সার্বিক অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে এর আগেই বিস্তারিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ‘গিরিকণ্ঠ’। গিরিকণ্ঠের সেই প্রতিবেদনে মাঠটির চরম অব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয়দের ক্ষোভের চিত্র সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, ঐতিহ্যবাহী এই মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণীর অসাধু দখলদারের দখলে থাকায় এর স্বাভাবিক পরিবেশ চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছিল। দিনে কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডাস্থল এবং রাতের অন্ধকারে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল ঐতিহাসিক এই রাজবাড়ির মাঠটি। অন্ধকার নামলেই তৈরি হতো আতঙ্কের পরিবেশ, ফলে আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা রাতে এই পথ দিয়ে চলাচলে ভয় পেতেন। মাঠটিতে খেলাধুলার সুস্থ সুযোগ না থাকায় উঠতি বয়সের কিশোররা অপরাধপ্রবণতায় ঝুঁকে পড়ার ঝুঁকিতে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক সমাজ। গিরিকণ্ঠের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছিল কিভাবে এই অব্যবস্থাপনার কারণে শহরের একমাত্র খেলার মাঠটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল। এমতাবস্থায়, মাঠের পুরনো ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উচ্ছেদ অভিযানে নামে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনাকালে পৌরসভার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের মাধ্যমে মাঠের সীমানা সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে মাঠটিকে সার্বিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজার মাঠ কেবল একটি খেলার মাঠ নয়; এটি বান্দরবানের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। কোনো অবস্থাতেই এই মাঠকে অবৈধ দখল বা অপরাধের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না। উচ্ছেদ করা স্থানে যেন পুনরায় কোনো দখলদার বসতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি চালানো হবে। একই সাথে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং পুলিশি টহল জোরদারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার এই তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে সর্বস্তরের বান্দরবানবাসী। দখলমুক্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে অভিভাবকরা জানান, এখন থেকে শিশুরা আবার নিরাপদে খেলাধুলা করতে পারবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা সুসংহত করে আলোর ব্যবস্থা করা এবং সন্ধ্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত টহল নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।