| ছবি: গিরিকন্ঠ
কলা বাগানে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন তিন তঞ্চঙ্গ্যা বাসিন্দা; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ভালুকিয়া পাড়ায় মর্মান্তিক মাইন বিস্ফোরণে তিন নিরীহ বাসিন্দার মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে নিজেদের কলা বাগানে কাজ করতে গেলে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে। অপহরণ, ভয়ভীতি, গুম এবং সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছে, নিহতরা শুধু তিনজন ব্যক্তি নন, তারা ছিলেন তিনটি পরিবারের একমাত্র ভরসা। তাদের মৃত্যুতে পরিবারগুলো মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে। এর আগে একই এলাকায় আরও দুইজন নিরীহ মানুষ প্রাণ হারানোর ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, সীমান্ত এলাকায় বহিরাগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর এমন তৎপরতা কেন এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। নিহতদের পরিবার, এতিম হয়ে যাওয়া সন্তান এবং অসহায় স্বজনদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার, মাইন অপসারণ অভিযান পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়েছে।