| ছবি: গিরিকণ্ঠ
দেশে চরম উদ্বেগ ও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতা ও নৃশংসতা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন জেলায় চারজন অবুঝ শিশুকে ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার পর অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড সামাজিক নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে ফুটিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ৪টি পৈশাচিক ঘটনার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো: মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যা গত ১৯ মে রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘাতকেরা শিশুটির মাথা ধড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে লাশ গুম করার চেষ্টা চালায়। পুলিশ এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার প্রতিবাদে এবং খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল হয়েছে। সিলেটে ৪ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যা, ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার গত ৬ মে সিলেটের জালালাবাদ থানা এলাকায় ৪ বছরের অবুঝ শিশু ফাহিমা আক্তারকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এক যুবক। একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার দুদিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে শিশুটির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ বছরের লামিয়া হত্যার শিকার গত ১৩ মে ঠাকুরগাঁওয়ে মাত্র ৪ বছর বয়সী আরেক শিশু লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কোনো কিছু বোঝার বয়স হওয়ার আগেই এই নিষ্পাপ শিশুটিকে পৈশাচিক লালসার বলি হতে হয়েছে, যা স্থানীয় এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১০ বছরের আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা গত ১৬ মে মুন্সীগঞ্জে ১০ বছর বয়সী শিশু আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একের পর এক ঘটে যাওয়া এসব ধারাবাহিক ঘটনা প্রমাণ করে যে, ঘরের বাইরে এমনকি প্রতিবেশীদের আশেপাশেও শিশুরা কতটা অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। উদ্বেগ ও বিচার দাবি মাত্র সাত দিনের মধ্যে চারটি ফুটফুটে শিশুর এই করুণ ও মর্মান্তিক পরিণতি দেশের সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীদের মতে, শিশু নির্যাতনকারীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ার কারণেই এই ধরনের অপরাধ বারবার ঘটছে। পাবলিক প্লেস থেকে শুরু করে সর্বত্র শিশুদের সুরক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির জোর দাবি জানানো হয়েছে।