| ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল জাতীয় বাজেট। নতুন অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ আজ ১ জুলাই (বুধবার) থেকেই এই বাজেট আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হচ্ছে। তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনা, সমালোচনা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীর পর ৩০ জুন (মঙ্গলবার) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বাজেটটি পাস হয়। এটি দেশের ৫৫তম বাজেট এবং চলতি বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। টানা তিন সপ্তাহ ধরে বাজেটের ওপর সংসদ সদস্যদের আলোচনা-সমালোচনার পর গত ২৯ জুন (সোমবার) অর্থবিলে মোট ৬৮টি সংশোধনী আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী হলো—ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা। এছাড়া জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধনে প্রস্তাবিত বিতর্কিত বিধান পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তিনটি খাতে প্রস্তাবিত নতুন ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত থেকেও সরকার সরে এসেছে। বাজেট পাসের সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েই অর্থবিলে এসব জনবান্ধব পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাজেট আলোচনায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, স্বতন্ত্র ও বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উত্থাপিত ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা মোট ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করলেও কণ্ঠভোটে তা নাকচ হয়ে যায়। পরে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২৬ পাসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। এক নজরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: মোট আকার: ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা (যা বিগত অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি)। মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা: ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা (এর মধ্যে এনবিআর আদায় করবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা)। বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা (যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ)। মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধি: মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।