| ছবি: গিরিকন্ঠ
দরপত্র দেওয়ার দীর্ঘ ৭ বছর পার হয়ে গেলেও খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি গণপূর্ত অধিদপ্তর। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালটিতে আইসিইউ এবং কিডনি ডায়ালাইসিসের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি স্বাস্থ্য সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে তীব্র শয্যা সংকটের কারণে প্রতিনিয়ত ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতালের বারান্দায় ও ফ্লোরে শুয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের কাজ শেষ না হওয়ায় ভুক্তভোগী রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অতি দ্রুত এই ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ করার জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির ৯টি উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী রাঙামাটির লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার বাসিন্দারাও উন্নত চিকিৎসার জন্য পুরোপুরি এই খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে প্রায় ৬ শতাধিক সাধারণ রোগী এখানে স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসেন। পাহাড়ি এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৯ সালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু দীর্ঘ ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ভবন সংকট দূর না হওয়ায় সার্বিক চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, শয্যা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে তারা হাসপাতালের বারান্দা ও ফ্লোরে অবস্থান নিচ্ছেন। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির ডলুব্রিজ এলাকার বাসিন্দা রতন মিয়া নিজের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালের বারান্দায় পড়ে আছেন। ওয়ার্ডের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় এই শীতের দিনেও বাইরে ঠাণ্ডার মধ্যে অত্যন্ত কষ্ট সহ্য করে তাকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী জনসাধারণের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অবিলম্বে এই নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করে।