প্রকাশ :: ... | ... | ...

তফসিল ঘোষণার আগেই জমজমাট নয়াপাড়া: কে পাবেন দলের সবুজ সংকেত?


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: গিরিকণ্ঠ

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী তোড়জোড় শুরু হলেও, তৃণমূল রাজনীতির মাঠে বিশেষ উত্তাপ ছড়াচ্ছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৩নং নয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই ৩০.৯২ বর্গ কিলোমিটার ও ১১.৯৪ বর্গ মাইল এলাকা নিয়ে গঠিত এই ইউনিয়নটিতে তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী আমেজ পূর্ণমাত্রায় প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। বর্তমান চেয়ারম্যানসহ একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর আগাম ঘোষণায় চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুক ও উদ্দীপনা। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নয়াপাড়া ইউনিয়নে এবার একটি জমজমাট পাঁচমুখী লড়াইয়ের সমীকরণ তৈরি হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এই ইউনিয়ন থেকে পাঁচজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমান সফল চেয়ারম্যান মুহাম্মদ কফিল উদ্দিন। ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং জনগণের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের সুοবাদে নিজস্ব শক্তিশালী ভোটব্যাংক তৈরি করে তিনি এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় প্রাতিষ্ঠানিক সমর্থন ছাড়াই তাকে এবার নিজ জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে বৈতরণী পার হতে হবে। অন্যদিকে, মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির তিনজন প্রভাবশালী নেতা এই ইউনিয়নে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। এরা হলেন—আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনসুর আলম, আলীকদম উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনছার আহমদ এবং উপজেলা বিএনপির নেতা ও বর্তমান ইউপি সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম। সম্ভাব্য প্রার্থী মো. মনসুর আলম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ও সমর্থন পেলে পাহাড়ি-বাঙালিসহ বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নয়াপাড়া ইউনিয়নকে একটি মডেল ও আধুনিক ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দলের সংকটময় সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম, দল ও জনগণ মূল্যায়ন করবে বলে আশাবাদী। আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী মো. আনছার আহমদ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছেন। সাম্প্রতিক বন্যাকালীন সময়েও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তাঁর সাথে রয়েছে এবং দল তাঁর ত্যাগ ও মাঠের অবস্থান বিবেচনা করে চূড়ান্ত সমর্থন দেবে বলে তিনি শতভাগ আশাবাদী। এছাড়া অপর সম্ভাব্য প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান ইউনিয়নটি একসময়ের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের অধীনে থাকাকালীন বৃহত্তর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন মানুষের সেবা করেছেন। নয়াপাড়া ইউনিয়ন গঠিত হওয়ার পর বিগত নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এলাকাবাসীর সমর্থন ও দলের সবুজ সংকেত পেলে আসন্ন নির্বাচনে তিনি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছেন। এদিকে বিএনপির এই তিন নেতার অনুসারীরা নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এলাকায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মাঠ গরম করে তুলছেন। তবে দল থেকে শেষ পর্যন্ত কাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে, কিংবা একক প্রার্থী নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল তৈরি হয় কি না—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা গুঞ্জন ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।